বিএনপি বাংলাদেশের নালিস পার্টি: কাদের

0
170
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি কোনো শিক্ষিত বিবেকবান মানুষ করতে পারে না। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসীদের অবাধে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে দলটি।’
কাদের বলেন, ‘আমি বানিয়ে বলছি না, পল্টনের অফিসে বসে আন্দোলন করার মুরোধ বিএনপির নেই। ঘরে বসে বসে প্রেস ব্রিফিং করে মিথ্যাচার করে যে, সে বাংলাদেশ নালিস পার্টি।’
আজ রোববার সকাল ১১টায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চত্বরে ৪৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর ও এক হাজার ১৪০ জন কৃষকের মধ্যে নগদ টাকা, সার এবং বীজ বিতরণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি কত অস্বচ্ছ অশুদ্ধ দল তা যুক্তি দিয়ে বলছি, ১০দিন আগে হঠাৎ করে রাতের অন্ধকারে তাদের দলীয় সংবিধানে পরিবর্তন করেছে। দেশেও সংবিধান আছে, বিএনপিরও সংবিধান আছে। বিএনপির সংবিধান থেকে তারা সাতটি ধারা পরিবর্তন করেছে। সাত ধারার এক নম্বরে ছিল, যদি কোনো ব্যাক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত হয় তিনি বিএনপির নেতা, এমপি, মন্ত্রী হতে পারবেন না। কোনো পর্যায়ের নেতা হতে পারবেন না। দুই নম্বর ধারায় ছিল, কোনো ব্যক্তি উম্মাদ হলে বিএনপির নেতা হতে পারবে না। তিন নম্বরে যদি কেউ ব্যাংক লোনে দেউলিয়া হয় তিনিও বিএনপির নেতা, মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। চার নম্বর ধারায় ছিল, যদি কেউ সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজ কুখ্যাত হয়, তিনি মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান কিছুই হতে পারবেন না। দন্ডিত ব্যক্তি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে এমপি ও মন্ত্রী হতে আর বাধা নেই।’
দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখন বিএনপির নেতা হতে আপনি যদি উম্মাদও হন তাহলেও নেতা হতে পারবেন। দেউলিয়া হলেও বিএনপি থেকে নেতা, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সবই হতে পারবেন। যদি আপনি দুর্নীতিবাজও হন তাহলেও বিএনপির নেতা হতে পারবেন। বেগম জিয়া ও তারেক জিয়ার দণ্ড দলীয় গঠনতন্ত্র থেকে তুলে দিয়ে বিএনপি বুঝিয়ে দিল তারা একটি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে দণ্ড দিয়েছেন আদালত, মুক্তিও দিতে পারে আদালত। বিএনপির নেতারা একেক বার একেক ইস্যু নিয়ে মিথ্যাচার করছে। বেগম জিয়া অসুস্থ। মানবিক দিক থেকে সরকার যা যা করণীয় সব কিছু জেলকোড অনুযায়ী  চিকিৎসা করার ব্যবস্থা নিচ্ছে। শারীরিক অবনতি হলে সেটাও সক্রিয় বিবেচনা করা হবে। আওয়ামী লীগের এখানে কিছুই করণীয় ছিল না। আদালতে ১০ বছর এ মামলা চলেছে। বেগম খালেদা জিয়া সময় ক্ষেপন করে ১৫২ দিন তিনি আদালতে হাজিরা দেননি।’
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি আজও অশুভ রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। সুযোগ পেলে তারা বহু ইস্যু পিকআপ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের আন্দোলন হয়েছে। বিএনপি ওই আন্দোলনে ঢুকে সরকার বিরোধী আন্দোলন করার জন্য লন্ডন থেকে সব আন্দোলনের নির্দেশনা দিয়েছে তারেক জিয়া। তা অডিও, ভিডিওতে ধরা পড়েছে।’
কাদের বলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠককালে দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নালিশ করিনি। রাজনীতি নিয়ে দেশে কথা বলবো, বিদেশে গিয়ে নয়। অথচ বিএনপি কথায় কথায় বিদেশীদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। বিএনপি আন্দোলনে ব্যার্থ হয়ে জনগণের সাড়া না পেয়ে বিদেশীদের কাছে গিয়ে বার বার ধর্ণা দিচ্ছে। বিদেশীদের কাছে নালিশ করছে সরকারের বিরুদ্ধে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবিধান নিয়ম অনুযায়ী যথা সমেয় নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবেন। শেখ হাসিনা সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবেন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন নারায়নগঞ্জ ও কুমিল্লার মত হবে। জনগণ যাদেরকে ভোট দিবে তারাই নির্বাচিত হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার আগেও হস্তক্ষেপ করেনি, এবারও হস্তক্ষেপ করবে না।’
এ সময় আরও বক্তব্য দেন- নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ইলিয়াছ শরীফ, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here