এবার এশিয়া কাপের সেই দুঃখ কি বাংলাদেশ দূর করতে পারবে ?

0
401

২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানে হারের ক্ষত এখনও টাটকা বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তদের হৃদয়ে। সেই ক্ষতে প্রলেপ লাগানোর সুযোগ ২০১৪ ও ২০১৬ সালের আসরে পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে পুরোপুরি ব্যর্থ হলেও দুই বছর আগের আসরে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে হেরে আরেক দফা স্বপ্নের সমাধি টাইগারদের!

শুক্রবার ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষ হতেই দ্রুত মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক মাশরাফি। সন্ধ্যা ৬টা থেকে দুবাই ক্রিকেট একাডেমির মাঠে টাইগারদের অনুশীলন, তাই সময় নষ্ট না করে অনুশীলন মাঠে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন সাংবাদিককেও মাশরাফির পেছনে ছুটতে হয়। অবশেষে টিম ম্যানেজারের অনুমতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ওয়ানডে অধিনায়ক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের ১৪তম আসর। এবারের আসরে ফেভারিট হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানকেই এগিয়ে রাখছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। ওয়ানডে সংস্করণ বলে খুব একটা পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাশরাফি তো এই আসর দিয়ে ভুলতে চাইছেন ২০১২ সালের দুঃখ। তবে তার জন্য দলগত পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

মরুর দেশে ১৪তম এশিয়া কাপে টাইগারদের সামনে অতীতের যন্ত্রণা দূর করার মিশন। সেই মিশনে অভিজ্ঞ-তারুণ্যের মিশেলে দল গড়েছে বাংলাদেশ। দলের জুনিয়রদের দিকেই বেশি করে তাকিয়ে মাশরাফি, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী ওদের (জুনিয়র) নিয়ে। আমার বিশ্বাস ওরা এখানে ভালো করবে। সবার মধ্যেই ভালো করার ক্ষুধা আছে। সব সময় চার-পাঁচজন দিয়ে এই ধরনের টুর্নামেন্ট জেতা যাবে না। দলগত পারফরম্যান্স ছাড়া সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত যত ম্যাচ জিতেছি, দল হিসেবেই জিতেছি। আশা করি এখানেও আমরা দল হিসেবে নিজেদের সেরাটা দিতে পারব।’

মুশফিকের নেতৃত্বে ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। আর ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ মাশরাফির অধিনায়কত্বে। বড় কোনও টুর্নামেন্টে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া মাশরাফির জন্য তাই এবারের আসরটি দারুণ এক সুযোগ। নিজের ভাবনা ভাগাভাগি করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘এটা তো আসলে নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে চ্যালেঞ্জও আছে। আমরা দল হিসেবে প্রথমবার খেলছি এখানে। আমরা ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছি। এখানে আসার পর তিন-চার দিন অনুশীলন করেছি পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। সেরাটা দিতে পারলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে।’

সেই ভালো কিছুটা কী? মাশরাফি মুখে না বললেও বোঝাই যাচ্ছে শিরোপার জন্য প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ তিনি। শনিবার লঙ্কানদের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের শুরুটা কেমন করে বাংলাদেশ, সেটাই এখন দেখার

যদিও দলের তরুণ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশা মতো পারফরম্যান্স পাচ্ছে না বাংলাদেশ। সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাঁধে ভর করে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই-একটি ম্যাচে জুনিয়ররা পারফর্ম করলেও ধারাবাহিকভাবে কেউই ভালো করতে পারেননি। মাশরাফি এশিয়া কাপে তরুণদের কাছ থেকে সেরাটা চান। তার বক্তব্য, ‘আলাদা করে তাদেরকে চাপ দেওয়ার কিছু নেই। এশিয়া কাপের রোমাঞ্চ আলাদা। এখানে এমনিতেই চাপ থাকে। প্রত্যেকেই দেশের জন্য খেলতে নামবে। কাজেই আলাদা করে যতটুকু বলার বলেছি। এখন মাঠে আমরা কতটা বাস্তবায়ন করতে পারি, তার ওপরই ভালো-খারাপ নির্ভর করছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here