ক্ষমতা চিরদিন থাকে না: ওবায়দুল কাদের

0
246

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন তাদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন নেতাকর্মীদের প্রতি। তিনি বলেছেন, ‘বসন্তের কোকিলদের দলে ঠাঁই দেবেন না। ক্ষমতা থেকে চলে গেলে তাদের কুপি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বসন্তের কোকিল, সুবিধাবাদী, মাদক ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও ভূমি দখলকারীদের না বলুন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ শুদ্ধি অভিযানকে সমর্থন করুন।’

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষমতার দাপট না দেখানোর আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ মানে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির শ্লোগান। দুঃসময় মোকাবেলার নাম আওয়ামী লীগ। সব দুঃসময়ের বিরুদ্ধে দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে আওয়ামী লীগ আজ ক্ষমতায়।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে, উন্নয়নকে বাঁচাতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হাই থিংক, সিম্পল লিভিং। এ নীতিতে চলতে হবে। ক্লিন ইমেজের যে কোনও ব্যক্তির জন্য শেখ হাসিনার দরজা সব সময় খোলা। আসুন আওয়ামী লীগে যোগ দিন। আওয়ামী লীগের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেবেন না।

দীর্ঘদিন পর অবশেষে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যোগ দিয়েছেন। ফলে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে মঙ্গলবার রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত এ সম্মেলনে।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে যোগদেন রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ড ও জেলার আট উপজেলার আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সম্মেলন। ২০০৭ সালে সাফিয়ার রহমান সাফিকে সভাপতি ও বাবু তুষার কান্তি মণ্ডলকে সাধারণ সম্পাদক করে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়।

১৯৯৭ সালে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন হয়। ২০০৬ সালে রংপুর জেলা সম্মেলন আহ্বান করা হলে দলের দুই গ্রুপের বিরোধের জেরে তা পণ্ড হয়ে যায়। পরে আহ্বায়ক কমিটি দ্বারা জেলা আওয়ামী লীগ পরিচালিত হয়।

২০০৯ সালে মরহুম আবুল মনসুর আহমেদকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজুকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় কমিটি। পরে আবুল মনসুর আহমেদের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।

সমাবেশের পরে জেলা ও মহানগর কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here