বাকশাল গঠনের কারণ জানালেন শেখ হাসিনা

0
170

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতেই বাকশালের মাধ্যমে সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতির পিতা মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (১৫ নভেম্বর) রাতে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিক উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি। কিন্তু বাকশাল বিষয়টিকে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিক উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে আনা সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনা চলছে ৯ নভেম্বর থেকে। রোববার সেই আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যে উদ্দেশ্য নিয়ে বাকশাল গঠন করেছিলেন, তা নিয়ে এখনো ভুল ব্যাখ্যা দেন অনেকে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘একটি বিপ্লবের পর অনেক কিছুই ঘটে। যাদের অর্থ আছে, লাঠি আছে, তারা সবকিছু দখলে নিতে চায়। তাই যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কেউ যাতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে না পারে, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক অধিকার যেন জনগণের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য একটি সিস্টেম চালু করতে চেয়েছিলেন। কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তিনি শেষ করতে পারেননি।’

শেখ হাসিনা বলেন, “জাতীয় সংসদে তার (বঙ্গবন্ধু) যে ভাষণ, সে ২৫ শে জানুয়ারি ১৯৭৫ সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দুর্নীতি, ঘুষ, চোরাকারবারি, মুনাফাখোরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং সংগ্রাম করতে হবে।’ মাননীয় স্পিকার, যে কথাগুলো তিনি বলেছিলেন, একবার চিন্তা করে দেখেন। পুরো জিনিসটাকেই কত উল্টো ব্যাখ্যা দিয়ে, যে একটা চমৎকার পদক্ষেপ তিনি নিলেন বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে, প্রতিটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে, সেটাকে নস্যাৎ করা হয়েছে।”

বাকশাল গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করে সংসদ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নটাই ছিল তার লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। কেবল এই বিষয়টি (বাকশাল) ভালোভাবে আসেনি। এটা নিয়ে অনেকে নানা ধরনের সমালোচনা করেন। বঙ্গবন্ধু যখন এই পদক্ষেপটা নেন, তখনও নানা ধরনের সমালোচনা শুরু হয়েছিল। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করেছেন—এটা করেছেন ওটা করেছেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চান, নানা ধরনের কথা বলেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সেই বিষয়ে কিছু বক্তব্য রাখতে চাই—জাতির পিতা যখন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করেন, সমগ্র জাতিকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেই তিনি দ্রুত জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। এদেশে উৎপাদন বৃদ্ধি করা, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি করা, এটাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। এটা বাস্তবায়নের জন্য তিনি যে কাজগুলো করে গিয়েছিলেন, সেটার সমালোচনা এমনভাবে শুরু হয়ে গেলো যে, তারপর তো দুর্ভাগ্য যে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। যার কারণে তিনি এই কাজটি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। কিন্তু কী করতে চেয়েছিলেন সেটাই বড় কথা।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সম্মান নিয়ে চলুক সেটাই তিনি চেয়েছিলেন। তিনি কোঅপারেটিভের মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এতে তিন গুণ ফসল বেশি হবে। ৬৪ হাজার গ্রামকে তিনি কোঅপরারেটিভে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। এভাবে তিনি কৃষিকে আধুনিকায়ন করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি প্রশাসনের আমূল পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এক জায়গায় এনে দেশের উন্নতির জন্য কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের তৃণমূল পর্যায়ে যাতে উন্নতি হয় সেটাই ছিল জাতির পিতার লক্ষ্য। এর জন্য তিনি ৫ বছরের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। তিনি যদি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারতেন তবে আজ বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে থাকতো। কিন্তু তাকে সেটা করতে দেওয়া হয়নি। আসুন আমরা এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করি। জাতির পিতার স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ে তুলি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here