এক সপ্তাহ আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে পর্তুগালের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর ঠিক ছয়দিন পরের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলে এখন রোনালদোর জায়গাটা নড়বড়ে, এ নিয়ে অবশ্য অস্থির হয়ে উঠেছে পর্তুগালের ড্রেসিংরুম। এমন পরিস্থিতিতে সিআরসেভেন ও কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি।
রোনালদোকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সমাধান করতেই এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবর। যে কারণে সুইডেনে থাকা পর্তুগাল দলের কাছে ছুটে যাচ্ছেন পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সা। যদিও আজ (বুধবার) আজোরেসে জিব্রাল্টারের বিপক্ষে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-২১ দলের ম্যাচ দেখার কথা ছিল তার। ম্যাচটি জিতলেই ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা নিশ্চিত হয়ে যেত পর্তুগিজ তরুণদের।
এরপর বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের দিন দেশটিতে থাকার কথা ছিল প্রোয়েন্সার। হঠাৎ সফরসূচি পাল্টানো প্রসঙ্গে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মারকাতো’ বলছে, প্রোয়েন্সা আজোরেসের সফর পুরোপুরি বাতিল করে সরাসরি কোপেনহেগেনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সেখান থেকে মালমো গিয়ে জেসুস ও রোনালদোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি।
এদিকে, সুইডেনের মালমো ক্লাবের অনুশীলনকেন্দ্রে ১ অক্টোবর স্বাগতিকদের সঙ্গে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে জর্জে জেসুসের দল। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি রোনালদোকে একাদশে রাখেননি, এমনকি নামাননি বদলি হিসেবেও। ওই সিদ্ধান্তের পর রোনালদোকে ক্যামেরার সামনে গম্ভীর মুখে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে কোচ নিজেই জানান, তিনি রোনালদোকে বদলি হিসেবে মাঠে নামানোর কথা বলেছিলেন, কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
জেসুস বলেন, ‘সে মনঃক্ষুণ্ন হয়েছিল কি না আমি বুঝতে পারিনি। এর উত্তর একমাত্র সেই দিতে পারে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, তাকে না খেলানোর অর্থ এই নয় যে আমি তার ওপর নির্ভর করি না। বরং ম্যাচের আগে আমি তাকে বলেছিলাম, “তুমি শুরু করবে না, তবে বদলি হিসেবে তোমাকে নামাব।” এটাই ফুটবল। ফুটবল নিজের নিয়মে চলে। আর এই নির্দিষ্ট ম্যাচে ফরোয়ার্ড পরিবর্তনের কোনো কারণ ছিল না, বিশেষ করে সামনে আমাদের ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচ আছে এবং সেখানে সে প্রথম পছন্দ হতে পারে।’
সুইডেনের মালমো শহরে পর্তুগাল দলের ক্যাম্পে ওঠার পর থেকেই রোনালদোকে ঘিরে দেশটির সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। কোপেনহেগেনের খুব কাছের এই শহরে এলেডা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে মাঠে উপস্থিত হন রোনালদো। জেসুসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলার পর তিনি আবার হোটেলে ফিরে যান তিনি।
রোনালদোর আলাদাভাবে অনুশীলন করার বিষয়টি নিয়ে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছে। তাদের দাবি, মালমো এফসির অনুশীলনকেন্দ্রে রোনালদোর ব্যক্তিগত অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। অনুশীলন শেষে রোনালদোর সঙ্গে ওই কথোপকথন নিয়ে সংক্ষেপে মন্তব্য করেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে প্রতিদিন, প্রতিটি মিনিটে কথা বলি।’
নিজের খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোনো বিরোধের কথাও অস্বীকার করেছেন পর্তুগাল কোচ। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সংবাদমাধ্যম জানায়, রোনালদোকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে ফেডারেশন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সা জরুরি ভিত্তিতে তার পূর্বনির্ধারিত সূচি বদলে ফেলেছেন।









