সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত খেলছে না। দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে (সাফ) জানানো হয়েছে, ‘ভারত এই আসরে খেলবে না।’ নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র কালবেলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কথাটা সাধারণ নয়। ভারত এই আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, ২০২৩ সালে নিজেদের মাঠে কুয়েতকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল দলটি। ৯ শিরোপা জেতা ভারত সাফের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল। সেই দল না থাকলে আসরের যেন অঙ্গহানি ঘটে! তার পেছনে অবশ্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন নেই। আছে ক্লাব আর জাতীয় ফুটবল সংস্থার সেই চিরায়ত টানাটানি। ফিফা উইন্ডোর বাইরে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাবগুলো ফুটবলার ছাড়বে না। অবশ্য ছাড়ার প্রশ্ন ওঠে তো অনেক পরে। সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে খেলোয়াড় ছাড়ানোর যে প্রক্রিয়া, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন সেটি শুরুই করেনি।
তারপরও ধোঁয়াশা কাটছে না। সূত্রের দাবির উল্টো সুরে কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। সাফ ও স্থানীয় আয়োজক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভাষ্য, তাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। সাফ সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন প্রশ্নটি এড়ালেন না, কিন্তু উত্তরটা দিলেন সোজাসাপ্টা, ‘আমি এই প্রসঙ্গে কিছু জানি না।’ বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বললেন আরেকটু যুক্তি সাজিয়ে, ‘এমনটা হওয়ার কথা নয়। ড্র অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। দল অংশগ্রহণ না করলে তো দেশটির প্রতিনিধির উপস্থিত হওয়ার কথা নয়।’
যুক্তিটা ফেলনা নয়। ড্রয়ের মঞ্চে ভারতের হয়ে ছিলেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি নালাপদ আহমেদ হারিস, যিনি এন এ হারিস নামেই বেশি পরিচিত। সেখানে তিনি আশ্বাসও দিয়ে এসেছিলেন। ড্রয়ে ভারত পড়েছিল ‘বি’ গ্রুপে, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের সঙ্গে। ৫ নভেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে অভিযান শুরু করার কথা ছিল তাদের, আর ১১ নভেম্বর পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার। সূত্র বলছে, ড্রয়ের পর পরিস্থিতি বদলেছে দ্রুত। ১০ অক্টোবর শুরু হয়েছে নতুন আইএসএল মৌসুম। প্রথম রাউন্ড শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি ম্যাচও মাঠে গড়িয়েছে। ক্লাব ফুটবলের চাকা যখন গতি পাচ্ছে, তখনই আসছে ৪ থেকে ১৭ নভেম্বরের সাফ। এই সময়সীমায় লিগের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও আছে। সব মিলিয়ে ছবিটা ঘোলাটে।
ইতিহাসের পরিহাসটাও কম নয়। আসরটি আদতে হওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরে। ভারতের আসিয়ান কাপের ব্যস্ততার কারণেই সূচি সরে গিয়েছিল নভেম্বরে। যে দলের সুবিধার জন্য তারিখ বদলাল, সেই দলই এখন অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে।
ভারত শেষ পর্যন্ত না এলে সংখ্যার হিসাবে আসর নেমে আসবে ৫ জাতিতে। নেপালের মাথায় আগেই ঝুলছে ফিফার নিষেধাজ্ঞার খড়্গ। শর্ত রেখে গ্রুপিং সম্পন্ন করা হয়েছিল। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠলে নেপালের জন্য দরজা খোলাই ছিল। তা না হওয়ায় আসর এগোচ্ছিল ৬ দলের দিকে। এর মধ্যেই এল ভারতের না খেলার বার্তা।
শেষ প্রশ্নটা তাই আর শুধু একটি দলের থাকা বা না-থাকার নয়। প্রশ্নটা এই অঞ্চলের ফুটবল কোন পথে হাঁটবে তা নিয়ে।









