স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সরকারী নাশকতারই ইঙ্গিত:রিজভী

0
141
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্যাবোটাজের বক্তব্যই মূলত সরকারী নাশকতারই ইঙ্গিতবাহী দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন,’গতকাল বিকেলে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ করে সশস্ত্র নিষ্ঠুর হামলা চালায় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। হামলায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।কোমলমতি এই শিক্ষার্থীদের ওপর এই হিংস্র হামলা নৃশংস দস্যুতার নামান্তর মাত্র।
তিনি বলেন,’গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নাশকতার আশঙ্কা করে নানা কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই শুরু হয়ে গেল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আক্রমণ। গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাঠি হাতে কিছু যুবক ও মধ্য বয়সী লোক গাড়ি চেক করছে এবং হামলা ও ভাংচুর করেছে তারা। এসমস্ত ঘটনায় সুষ্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্যাবোটাজের বক্তব্য মূলত: সরকারী নাশকতারই ইঙ্গিতবাহী। অতীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে নাশকতাগুলো তারা করেছেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সরকার কিভাবে ডাইভার্ট করেছে, কিভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে তা কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও ভুলে যায়নি। আপনারা দেখেছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত পরশু দিনও বলেছেন-শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। তারপরও গতকাল শিক্ষার্থীরা মাঠে কেন, কারণ এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও এই সরকারকে বিশ্বান করে না।
শুক্রবার(৩ আগস্ট)নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন,’দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি জনগণের সামনে খুলে ধরার জন্য স্কুল-কলেজ পড়া এই সকল কিশোর-কিশোরীদের আমরা অভিনন্দন জানাই। শিক্ষার্থীরা অপশাসন, দু:শাসন ও অব্যবস্থাপনার অভিঘাত অভূতপূর্ব আন্দোলনে তুলে ধরতে পেরেছে। গাড়ীর বৈধ ডকুমেন্টস, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ীর ইন্সুরেন্সের মতো অতি সাধারণ বিষয়গুলোও সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রাজপথে ট্রাফিক অব্যবস্থা, শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে যে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম ছাড়া আর কিছু লাগে না, তা এই শিশু-কিশোর’রা মাত্র দু’দিন কাজ করে তা প্রমান করে দিয়েছে। এসব বালক-বালিকা’রা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অবৈধ সরকার কোন কাজই করতে পারে না ঃ আবার একই সঙ্গে আরও দেখিয়ে দিয়েছে-সুশাসন ও গণতন্ত্র কায়েম করা গেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকেও ইতিবাচক পথে পরিচালনা করা যাবে। জনমন থেকে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন তারা পূণ:প্রবর্তন করেছে। পরিবর্তনের অসীম আশা জাগিয়েছে দেশবাসীর মনে; এটা অনেক বড় কাজ, সে দায়িত্ব এই নিস্পাপ শিশু-কিশোর’রাই সম্পন্ন করেছে।
তিনি বলেন,’ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিক দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করার জন্যই মন্ত্রীদের নির্দেশেই গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন-নিরাপত্তার জন্য পরিবহন মালিক’রা বাস রাস্তায় নামাচ্ছে না। বন্ধুরা, আপনারা গতকাল দেখেছেন-কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গাড়ী চলতে বাধার সৃষ্টি করেনি, বরং তারা সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ী চলতে সহায়তা করেছে, তারা গাড়ী ও গাড়ী চালকদের লাইসেন্স আছে কী না সেটি চেক করেছে। কিন্তু আমরা কি দেখতে পেলাম-মন্ত্রীর গাড়ীর চালকের লাইসেন্স নেই, এমপি’র গাড়ীর কাগজপত্র নেই, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গাড়ীর কাগজপত্র নেই, গাড়ীর চালকেরও লাইসেন্স নেই। এসব খবর আবার দেশি-বিদেশী গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে। এটা জাতির জন্য কতবড় লজ্জার তাতে অবৈধ সরকারের টনক নড়েনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন,’সরকার শুধু পরিবহণ সেক্টরেই ব্যর্থ নয় দেশের সকল সেক্টরে এ অবৈধ ভোটারবিহীন সরকার ব্যর্থ, তাই সর্বাগ্রে বিএনপি’র পক্ষ থেকে সরকারের যে পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে তা গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে দেশ পরিচালনায় লাইসেন্সহীন সরকারের পদত্যাগ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু নিয়ে হাসি-তামাশা ও পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা সৃষ্টিকারী নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিরাপদ সড়কের গণদাবিকে জনগণ ন্যায্য বলে মনে করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here