যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।
যশোরে বকেয়া টাকা চাওয়ায় পাপ্পু হোসেন বাবু (১৮) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শহরের বড়বাজার এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত পাপ্পু হোসেন বাবু শহরতলী শেখহাটি বাবলাতলা এলাকার জলিল উদ্দিনের ছেলে। বাবুকে রক্ষা করতে গিয়ে তার বড় ভাই দিপুও ছুরিকাহত হন।
নিহতের স্বজনরা জানান, যশোর শহরের বড়বাজারের মাছ বাজারের পাশে বাবুর মোবাইল ফোনের রিচার্জের দোকান রয়েছে। এই দোকানে টাকা বাকি রাখা নিয়ে খালধার রোড এলাকার অপুর সঙ্গে তার বিরোধ হয়।
এই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে অপু আরও তিন দুর্বৃত্তকে সঙ্গে নিয়ে বাবুর ওপর হামলা চালায়। তার বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে রক্ষা করতে তার বড় ভাই দিপু এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে যশোর হাসপাতালে প্রেরণ করে। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দিপুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
এদিকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পেতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসরত ১৪ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১। এদের মধ্যে নাইজেরিয়ার সাত জন, উগান্ডার দুই, ক্যামেরুনের এক, কঙ্গোর এক, লাইবেরিয়ার এক, তানজানিয়ার এক এবং মোজাম্বিকের এক জন নাগরিক রয়েছেন।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা ও খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ২৯টি মোবাইল সেট, দুটি ল্যাপটপ, এক লাখ ৫৮৫ টাকা, এক হাজার ১৩ ডলার ও বিভিন্ন ব্যাংকের কয়েকটি চেক উদ্ধার করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ ‘আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক’ চক্রের সদস্য। তারা মূলত ফুটবল খেলা ও বিভিন্ন ব্যবসার নামে বাংলাদেশে আসেন ট্যুরিস্ট ভিসায়। তিন থেকে ছয় মাস পর ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও পাসপোর্ট ফেলে দিয়ে একেকজন দুই থেকে ১০ বছর ধরে বাংলাদেশে রয়ে গেছেন। তারা ১০ থেকে ১২ জন করে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন।’
র্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, ‘চক্রটি ফেসবুকে প্রথমে বিভিন্ন ভুয়া নামে অ্যাকাউন্ট খুলে নারী, পুরুষ ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে সখ্যতা গড়ে তুলত। তারা নিজেদের আফগানিস্থানে যুদ্ধরত নারী-পুরুষ সৈনিক অথবা বিদেশি অথবা জাতিসংঘের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সখ্যতা গড়ে তুলত অথবা এদেশীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যবসায় সুযোগ তৈরির কথা বলত।’
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, একপর্যায়ে তারা জানাত যে, তাদের বন্ধু বাংলাদেশে যাবে যার কাছে সে তার জন্য দামি উপহার পাঠাচ্ছে। উপহার হিসেবে দামি ফোন, অলঙ্কার অথবা বিপুল পরিমাণে নগদ টাকা থাকার কথা বলত। এরপরে ওই বন্ধু বাংলাদেশে এসে টার্গেটকে ফোন দিয়ে তার বিদেশে অবস্থানরত বন্ধুর রেফারেন্স দিয়ে কথা বলত এবং জানাত যে, তার উপহার সামগ্রী কাস্টমসে আটকে আছে যা ছাড়ানোর জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন। চক্রটি সাদা কাগজে কিছু রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ করে ডলার তৈরি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত।’
সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘চক্রটির মূল হোতা মার্ক নামে একজন নাইজেরিয়ান নাগরিক। র্যাবের তৎপরতায় দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি। চক্রটি প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বাংলাদেশ থেকে হাতিয়ে নিয়ে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সেই টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিত। গ্রেপ্তার বিদেশিদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশি কিছু নাগরিক এই চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। যাদের কাজ হলো ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নাম্বার সংগ্রহ করা এবং নিজেকে কাস্টম অফিসার বা কাস্টমসে কর্মরত পরিচয় দিয়ে ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ করা। প্রতারণার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য তারা ওই সব অ্যাকাউন্টের মালিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কমিশন পেত।’
এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও র্যাব-১ এর অধিনায়ক জানান।





