জাহিদ বিন আজিজ: আয় তবে সহচারী হাতে হাতে ধরি ধরি… গানটির প্রতিচ্ছবি যেন এই দুর্লভ ছবিটি। আশির দশকের, মিষ্টি রোদের পড়ন্ত এক বিকালে শেখ হাসিনা তাঁর বান্ধবীর খোলা ছাদে আড্ডা দিচ্ছেন।
কিছু গল্প, দুষ্টুমী, আড্ডা, সুখ দুখের ভাগাভাগী এক অনন্য বাঁধনে ছিলেন দুজন। আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরলে তিনি ছিলেন তাঁর সার্বক্ষণিক বন্ধু।সারাদিন রাজনীতি করার পর শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় আড্ডা দিতেন তাঁর সঙ্গে, গল্প করতেন। কোনো কোনো দিন ভোর পর্যন্ত চলত তাদের গল্প।
৭৫’এ পরিবার হারা শেখ হাসিনার আন্দোলনে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। তারা ছিল একসূত্রে গাঁথা অন্তর্যামী একই প্রাণের স্পন্দন। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বান্ধু বেবী মওদুদ এর কথা বলছি। সুখ দুখে সব সময় ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে। ১/১১ তে কারাগারে বন্ধী শেখ হাসিনাকে সাহস জুটান তিনি।
শেখ হাসিনার আরেক বন্ধু স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া হঠাৎ চলে গেল ২০০৯ সালে। স্বামীহারা শেখ হাসিনার পাশে তখনও ছিল বেবী। মাত্র পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই ক্যান্সার ব্যধিতে মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুতে মুষরে পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা। শেখ হাসিনা বলেন – “আমি আমার দীর্ঘদিনের একজন প্রিয় বন্ধুকে হারালাম।”
শেখ হাসিনা একজন রাষ্ট্রপ্রধান। ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই। একটু অবসর হলেই নাতী নাতনীদের নিয়ে দুষ্টমিতে মেতে উঠেন। ছোট বোন শেখ রেহানা তাঁর ছায়াসঙ্গী, চোখের আড়াল হতে দেয়না। তাই খুব কম সময় তাঁর একাকীত্ব আশে। রাতে তাহাজ্জুদ, ফজরের নামাজ এরপর কোরান পড়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে কাজে বেড়িয়ে পরে প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এখনো যখন সন্ধ্যা নামে, মন অজান্তেই খুজে ফিরে ‘বেবী’কে। আপন মনে বলে উঠে, কোথায় তুই? কোথায় গেলি হারিয়ে? তুই যে আমার খুবই আপন..
বেবী মওদুদের সাথে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সম্পর্ক ছিল হৃদ্যতা পূর্ণ। একটু ভাবুনতো, যার ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজ্জন মুখ্যমন্ত্রী মমতা; তাঁর আর্থিক অবস্থা ছিল অস্বচ্ছল। এই মানুষগুলি কেমন যেন। নেই পোষাকী প্রাচুর্যতা, রুপচর্চা বা দামী অলংকারে মোটেই সাজে না। বাড়ী গাড়ী ঐশ্বর্য কোন কিছুই কাছে টানে না। নির্লোভ, নির্মোহ এই মানুষদের মন সাধারণ মানুষের ভালোবাসাতে রঙিন থাকলেও জীবনটা তাদের নিতান্তই সাদামাটা। রঙহীন। হয়তো তারা রঙহীন থাকেন বলেই আমাদের জীবনটা রঙিন।