অবাঞ্ছিত কোনও কিছুই আমার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবেনা : ইলিয়াস কাঞ্চন

0
137

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট: নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন অবাঞ্ছিত কোনও কিছুই আমার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবেনা।

সোমবার ( ৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে বিভিন্ন বাস টার্মিনালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার প্রতিবাদে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা
বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমাকে কেন অবাঞ্ছিত করা হয়েছে তা প্রকাশিত সংবাদে উঠে আসেনি। তবে এ ঘটনা নতুন নয়। ২০১২ সালে শহীদ মিনারে পরিবহণ মালিক শ্রমিক সমাবেশে আমার ছবিতে জুতার মালা পরানো হয়েছিল, আমার ছবি পোড়ান হয়েছিল। এমনকি রাজধানীর কুড়িল রেলক্রসিংয়ে দাড়িয়ে থাকা আমার গাড়ির পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করে আমার ওপর আক্রমণের প্রয়াসও চলেছিল। এমনকি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় খুলনা এবং ঢাকার যাত্রাবাড়িতে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেপথ্যের নায়ক উল্লেখ করে আমার ছবি পোড়ানো হয়েছিল। তখন আমি বিষয়টি জানার পরেও আমি আপনাদের বলিনি সকলের মঙ্গলের কথা ভেবে। এমনকি এসব ঘটনায় আমি বিচলিতও হইনি। নিজেকে নিয়ে চিন্তিতও নই। আমি চিন্তিত সড়ক নিয়ে, সড়কের মানুষকে নিয়ে। আমি বিশ্বাস করি সকল ভালো মন্দের নিয়ন্ত্রা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। তাই বাঞ্ছিত কিংবা অবাঞ্ছিত কোনকিছুই আমাকে আমার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আমি কাজ করছি সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে, জনগনের মাঝে সচেতনতা আনতে, সকল চালক ভাইদের শারীরিক ও মানসিকভাবে গড়ে তুলতে, সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সড়ক দুর্ঘটনারোধ করতে।

সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে কাজ করতে গিয়ে আমি কাউকেই প্রতিপক্ষ মনে করি না উল্লেখ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি বিশ্বাস করি এবং সবসময় বলেও থাকি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধুমাত্র চালকরাই দায়ী নয়, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যে বা যারা
দায়ী আমি তাদেরই কথা বলি। যেমন, পথচারীদের কারনেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যাত্রীর কারনেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, গাড়ির ফিটনেসের কারনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, রাস্তার ত্রুটির কারনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলার কারনে
দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, ওভার স্পীড-ওভারলোড-ওভারটেকিং এর কারনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মোট কথা যার কারনে দুর্ঘটনা ঘটবে তাকেই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, পরিবহণ মালিক শ্রমিকরা যে দাবী করছে তা সরকারের দেখার বিষয়। আমরা চাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন। এই আইন প্রণয়নে আমাদের পক্ষ থেকে ছোট বড় মিলিয়ে একাধিক সংশোধনী দেয়া হয়েছিলো। বিশেষ করে আইনটির শিরোনাম ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন ২০১৮’, সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ দশ বছর করা, অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ী চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে এবং তাতে কারো মৃত্যু হলে মামলা ৩০২ ধারায় হবে উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে আপনাদের সামনে আমি একাধিকবার
কথা বলেছি। আইনটি পাশ হওয়ার পর আমাদের পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে আমাদের চাওয়ার প্রায় ৮০ ভাগই বর্তমান আইনে এসেছে। একথা অনসীকার্য যে আমরা ছাড়াও সড়কে আরও স্টেক হোল্ডার রয়েছে। সকলের চাওয়ার যে কোনকিছুকে বাস্তবায়নে সকল মত ও পক্ষকে আস্থার আওতায় আনতে হয়। আমি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়নে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এইজন্য যে দীর্ঘ দিনের জঞ্জাল পরিস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন এই সরকার। বিশেষ করে এ আইন প্রয়োগে সকল মহলের আন্তরিকতা, মনিটরিং ও মেনে চলার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরে নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এ আইন নিয়ে যদি আমাকে জড়ানো হয় তা হবে দুঃখজনক। আমি মনে করি সরকার সকল মহলের মতামত নিয়ে এ আইন প্রণয়ন করেছেন। আমি একজন স্টেক হোল্ডার মাত্র।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, নিরাপদ সড়ক চাই এর ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুজ্জামান, মহাসচিব সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল, যুগ্ন মহাসচিব লিটন এরশাদ, যুগ্ন মহাসচিব বেলায়েত হোসেন নান্টু, যুগ্ন মহাসচিব লায়ন গনি মিয়া বাবুল, অর্থ
সম্পাদক নাসিম রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসাইন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে আজাদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুলী কাজী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মঈন জয়, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার এম আর হাসান, প্রচার সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল খালেক প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here