বয়স ৪১ হয়ে গেছে, চোটে ভুগছেন, তারপরও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগাল দলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোকে দলের প্রাণ ভোমরা হিসেবে বর্ণনা করছেন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে আসন্ন বিশ্বকাপে পর্তুগালের অধিনায়কত্ব করবেন তিনি। টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া এ সুপারস্টার এখন হ্যামস্ট্রিং চোটে আক্রান্ত। তাই দল থেকে এখন বাইরে আছেন তিনি।
চোটাক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও রোনালদো পর্তুগালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন দলটির স্প্যানিশ কোচ মার্টিনেজ, ‘ক্রিশ্চিয়ানো আমাদের অধিনায়ক, তিনি রোল মডেল এবং সত্যিকারের জয়ের খিদে থাকা একজন খেলোয়াড়।’ ফুটবলে ৪১ অনেক বয়স, অনেকের মতে বয়সের কারণেই ইউরোপের সর্বোচ্চ লেভেলের ক্লাব ফুটবল ছেড়েছেন তিনি। কিন্তু মার্টিনেজ বুড়ো রোনালদোয় কোনো সমস্যা দেখছেন না, ‘তিনি কেবল ৪১ বছর বয়সী একজন খেলোয়াড় নন, তিনি এমন একজন যে কিনা প্রতিদিন উন্নতির জন্য মুখিয়ে থাকেন। অধিনায়ক হিসেবে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এবং তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি এমনই একজন যিনি পথ দেখান এবং আমাদের মূল্যবোধগুলো ফুটিয়ে তোলেন।’
তবে শুধু তারকা খ্যাতি বা তরুণদের অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য দলে জায়গা পান না রোনালদো। কোচ জানিয়েছেন, পারফরম্যান্স দিয়ে দলে সগৌরবে টিকে আছেন তিনি। মার্টিনেজ এ পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন, ‘সর্বশেষ ৩০ ম্যাচে তিনি ২৫ গোল করেছেন। আমরা প্রতিদিনের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে একজন খেলোয়াড়কে পরখ করি, প্রতিটি সেশন ধরে ধরে আমরা পর্যবেক্ষণ করি। জাতীয় দলে প্রত্যেককে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন রোনালদো। যে কারণে তিন দিন আগে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি। ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডেও নেই তিনি। রোনালদো এখন আলাদা অনুশীলন করেছেন। আগামী সপ্তাহে তিনি খেলায় ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন কোচ, ‘তাঁর চোট মোটেও গুরুতর কিছু নয়। আগামী সপ্তাহেই দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবেন তিনি। ক্রিশ্চিয়ানো আমাদের অধিনায়ক, খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। নেশন্স লিগে তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। শুধু আর্মব্যান্ডের নেতা নন তিনি, প্রতিপক্ষের সীমানায় আমাদের আক্রমণেরও নেতৃত্ব দেন তিনি।’
২০০৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া রোনালদোর কাছ থেকে এখনও অবসরের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্টিনেজও পরিষ্কার কিছু বলতে পারেননি, ‘তাঁর ক্যারিয়ারের সমাপ্তি? আমরা জানি না। এটা আসলে বলা কঠিন। ক্রিশ্চিয়ানোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুমানের চেষ্টা করা যে ঠিক নয় সেটা আমি দ্রুতই বুঝে গেছি। সে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টায় আছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করেননি।’ ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৪৩ গোল করে সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে আছেন তিনি।





