রাঙামাটিতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

0
437
রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে।
“শক্তিমান উপজেলা পরিষদের পাশে তার বাসা থেকে নিজের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”
শক্তিমানের সঙ্গে থাকা রুপম চাকমাও এ সময় আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা ২০১০ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা) নামে গঠিত নতুন দলে যোগ দেন। সংস্কারপন্থি এই নেতা ছিলেন ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি।
আহত রূপম চাকমা জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) নানিয়ারচর উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা বলেন, “সকালে বাসা থেকে মোটর সাইকেলে করে রূপমকে নিয়ে অফিসে যাচ্ছিলেন শক্তিমান দাদা। পথের মধ্যে দুইজন অস্ত্রধারী মোটর সাইকেল থামিয়ে তাদের গুলি করে। দাদার শরীরে তিনটি গুলি লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। রূপমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে ( ইউডিপিডিএফ) দায়ী করে সুদর্শন বলেন, “তারা দীর্ঘদিন ধরে দাদাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। আমরা এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দেব।”
ওই অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপিডিএফের প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, “এটি তাদের আন্তঃকোন্দলের ফল হতে পারে। আমরা কোথা থেকে এর মধ্যে আসব! আমাদের মধ্যে যারা বিরোধ জিইয়ে রাখতে চায়, এমন তৃতীয় কোনো পক্ষও এটা করাতে পারে।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, “কারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটিতে আনা হবে।
গত মার্চে খাগড়াছড়ির ইউপিডিএফ নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমাকে অপহরণের ঘটনায় যে মামলা হয়েছিল, সেখানে শক্তিমান চাকমাসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের শুরু ইউপিডিএফ নেতা মিঠুন চাকমা হত্যা মামলার এজাহারেও আসামি হিসেবে শক্তিমানের নাম ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here