থেমে নেই নারায়ণগঞ্জে ফুটপাথে পুলিশের চাঁদাবাজি 

0
163
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাথে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান সমর্থকদের হামলায় এনসিসি মেয়র আইভী ও ১০জন সাংবাদিকসহ শতাধিক লোক আহত হয়। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জ। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলা বা জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। গত ১৬ জানুয়ারি সংগঠিত ওই ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলা ডীপ ফ্রিজে চলে গেছে। আর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেই দিচ্ছি করে কাল ক্ষেপন করছে কমিটির সদস্যরা।
এত কিছুর পরেও বঙ্গবন্ধু সড়ক ছাড়া অন্য যেসব সড়কের ফুটপাথে হকার বসে তাদের কাছ থেকে পুলিশের চাঁদাবাজি চলছেই। ফুটপাথ থেকে পুলিশ ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগ শেষ হবে কবে ? এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতিত চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হল থেকে শুরু করে মিশনপাড়া রামকৃষ্ণ মিশন, খাজা সুপার মার্কেটের সামনে এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পাশে বালুর মাঠ সড়কে এখন হকাররা বসে। এদের সংখ্যা প্রায় তিনশ’।
এই হকারদের কাছ থেকে এখনও নিয়মিত চাঁদা তোলে পুলিশ। চাঁদা তোলার দায়িত্বে আছে চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়ির কনসটেবল শওকত আলী। এই শওকত আলী হকারদের কাছ থেকে নূন্যতম ১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিয়ে থাকেন। গড়ে ৩০ টাকা হিসেবে প্রতিদিন তিনশ হকারের কাছ থেকে আদায় হয় ৯ হাজার টাকা। মাসে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়ির সদ্য সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক গাজী মিজানুর রহমানের সময় শওকত আলী গং তার পক্ষে চাঁদা তুলতো। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বদলী হয়ে চলে যাবার পরেও শওকত আলী গংদের চাঁদা তোলা অব্যাহত রয়েছে।
চাঁদার এ টাকার পুরোটাই শওকত আলী ও চাষাঢ়া ফাঁড়ির মুন্সী রুহুলসহ কয়েকজন ভাগবাটোয়ারা করে নেয় বলে জানা যায়। আর হকাররাও বাধ্য হয়েই পুলিশের হাতে চাঁদা তুলে দিচ্ছেন। কনসটেবল শওকত আলীর চাঁদা তোলার ভিডিও ও স্থির চিত্র আছে। নগরীর চাষাঢ়া মোড় ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পাশে বালুর মাঠ সড়কে কনসটেবল শওকত আলীর চাঁদা তোলার ভিডিও ও স্থির চিত্র ধারণ করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাষাঢ়া কেন্দ্রীক এক ফল বিক্রেতা বলেন, সব সময়ই হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেয় পুলিশ। চাঁদার পরিমান নির্ভর করে ব্যবসার ধরণ এবং ব্যবসায় কি পরিমান বিনিয়োগ তার উপর। যেসব ব্যবসায়ির পূঁজি বেশি তাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা এবং যারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝাল মুড়ি বিক্রি করেন তাদের মতো হকারদের কাছ থেকে নূন্যতম ১০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হকার নেতা বলেন, পুলিশকে টাকা না দিলে তারা নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই বাধ্য হয়ে নির্বিঘেœ ব্যবসা করতে হলে তাদের টাকা দিতেই হয়। আগে যখন পুরো বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসতো, তখন ২ ভাগে চাঁদা দিতে হতো। এক ভাগে থানা পুলিশকে, অপর ভাগে ফাঁড়ি পুলিশকে। আবার প্রশাসন চাপ দিলে চাঁদা নেওয়া পুলিশরাই হকারদের মালামাল জব্দ করে নিয়ে যেতো।
অভিযোগের বিষয়ে কনসটেবল শওকত আলী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ভাই ছোট চাকরী করি আমার ক্ষতি করবেন না। সে ক্ষমা প্রার্থনা কওে বলেন, এমন অনেক কিছু করতে হয়। আপনি যদি মনে করেন ভাইয়ের ক্ষতি করবেন, তাহলে করবেন, আমার বলার কিছু নাই।
এ ব্যাপারে চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক এসএম ওবায়দুল হক বলেন, আমি গত দেড়-দুই মাস আগে ফাঁড়িতে যোগ দিয়েছি। ফাঁড়ির সব কনসটেবলের নামও আমার জানা নেই। তবে এমন কিছু ঘটে থাকলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, এ ধরণের ঘটনা কোন ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here