একাত্তুরের সেপ্টেম্বরনামা (৮)

0
50

সালাহ উদ্দিন:  ১৯৭১ এর ২০ সেপ্টেম্বরে ১নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী সুবেদার রহমান আলীর নেতৃত্বে পাকবাহিনীর চম্পকনগর বিত্তপি আক্রমণ করে। কিছুক্ষণের এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর ৩ জন সৈন্য হতাহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা কোনোরূপ ক্ষতি ছাড়াই নিজেদের অবস্থানে ফিরে আসে।

লাকসামের নারায়ণপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজাকাররা এক বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলা চালালে ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়। কিছু অস্র আটক করে।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তানারচর এলাকায় ৯ জন পুলিশ ও ১১ জনের রাজাকার বিশিষ্ট দল টহল দেয়া অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমন করলে ১ পুলিশ নিহত ১ রাজাকার গুরুতর আহত হয়। ২ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়।

রাজশাহীর চারঘাট উপজিলার শান্তি কমিটি সাধারন সম্পাদকের বাড়িতে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল তাকে হত্যা করে। ৭ নং সেক্টরের বঘা ও কুমারশাইলে মাইন বিস্ফোরণে দুইজন পাক সৈন্য নিহত।

এদিন সন্ধ্যায়, ভারতীয় চরদের একটি দল চট্টগ্রামের চন্দনপুরায় পাকিস্তান কনভেনশন মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গাড়িতে গ্রেনেড হামলা করে । হামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী গুরুতর আহত হন। তার ড্রাইভার নিহত হয়।

মোহাম্মদ তোয়াহা , আব্দুল হক, হাবিবুর রহমান, রাশেদ খান মেনন, সিরাজ শিকদার মিলে পিপলস লিবারেশন আর্মি গঠন করেন। লক্ষ্মীপুরে এক চরে এই বাহিনীর দপ্তর করা হয়েছে। সাবেক ইবিআর, ইপিআর , পুলিশ, আনসার সদস্যরা এই দলে যোগ দিয়াছেন বলে জানা যায়। ৭০০০ গেরিলার একটি বাহিনীর প্রধান হাবিবুর রহমান। দলটি বার্মার লাল পতাকা বাহিনি থেকে প্রচুর অস্ত্র পায়।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লুধিয়ানায় এক সমাবেশে বলেন, যেসব বিদেশী সরকার বাংলাদেশ সমস্যাকে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত করেছেন, তারা পক্ষান্তরে পাকিস্তান সরকারের অগণতান্ত্রিক কার্যক্রম ও গণহত্যার নীতিকে সমর্থন করছেন। তিনি বলেন, ভারত সরকার চান তার দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশের শরণার্থীরা মুক্ত স্বদেশে ফিরতে আগ্রহী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here